এই SMS/ ইমেইল পরিচিত দশ জনকে পাঠান, আপনার উন্নতি হবে, এগুলোর কোন ভিত্তি নেই!

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না 
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-
প্রথমত, প্রায়ই কিছু SMS এর কথা শুনতে পাই/দেখি যা সত্য/মিথ্যা মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয় এরপর ৭/১০ জনকে পাঠতে বলা হয় আর এটাও বলা হয় যে এতে কিছুদিনের কিংবা দুইদিনের মধ্যে সে সুসংবাদ শুনবে কিংবা তার উন্নতি হবে। দ্বীন সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা না থাকার কারণে অনেকে আবেগ প্রবন হয়ে সরল বিশ্বাসে SMS গুলো পাঠিয়ে থাকেন।
দ্বিতীয়ত, প্রায়ই জুমা’র সালাত পড়ে বের হতে না হতেই হাতে নানান প্রকারের কাগজ এসে পড়ে। এরমধ্যে অমুক ব্যক্তি মদীনা শরীফ হতে স্বপ্ন দেখেছেন…..এরপর সেখানে কিছু কল্পনা প্রসূত আমল করার কথা লেখা থাকে এরপর বলা হয় ১০০ জনকে তা ফটোকপি করে দিলে উন্নতি হবে আর অবিশ্বাস করলে নানা ধরণের বিপদ হবে লেখা থাকে। সরল বিশ্বাসে অনেকেই এই কাজটি করে থাকেন কল্যাণ লাভের আশায়।
এক কথায় এগুলোর কোন ভিত্তি নেই। আমাদের জীবনে কল্যাণ কিংবা অকল্যাণ কিছু ভুয়া/বানোয়াট SMS আর চিঠি ফটোকপি করে বিলি করার সাথে বিন্দু মাত্র সম্পৃক্ত নয়। বরং এগুলোতে বিশ্বাস করলে নিম্নোক্ত ভয়ংকর বিষয়গুলো সাব্যস্ত করা হয়ে থাকে যা স্পষ্টত কুফরি।
১. ভাগ্য গণনায় বিশ্বাস স্থাপন করা হয়, যা স্পষ্টত কুফরি। SMS আর চিঠি অন্যকে ছড়িয়ে দেয়ার ফলে ভাগ্যের উন্নতি হবে না দিলে খারাপ হবে এরকম নিশ্চিত জ্ঞান সেই ব্যক্তিকে কে দিয়েছে?
আল্লাহ তা’আলা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন-
وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لا يَعْلَمُهَا إِلا هُوَ
অর্থঃ “আর তাঁর কাছে রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ, তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানে না।” (সূরা আনআমঃ ৫৯)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এমন স্পষ্ট করে ভবিষ্যতের তথ্য ওহী ব্যতীত জানতেন না। কুরআনের বর্ণিত হয়েছে-
قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلا ضَرًّا إِلا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
অর্থঃ বল, ‘আমি আমার নিজের কোন উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমিতো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে’। (সূরা আরাফঃ ১৮৮)
২. ইসলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশাতেই পরিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিদায় হজ্জের ভাষণের পরে নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسْلامَ دِينًا
অর্থঃ “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিআমত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে।” (সূরা মায়িদাঃ ০৩)
দীন পূর্ণ এবং নিয়ামত সম্পূর্ণ অর্থাৎ যাবতীয় কল্যাণ লাভের পথ, আল্লাহ তা’আলাকে সন্তুষ্ট করার পন্থা, ইবাদতের নিয়ম কানুন পরিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর আর কিছু নতুন করে বাড়ানোর নেই কিংবা কমানোর নেই।
SMS এবং চিঠিগুলোতে নতুন পদ্ধতীর ইবাদতের কথা লেখা থাকে যার ফলে কল্যাণ লাভ কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে জান্নাত লাভের কথা পর্যন্ত লেখা থাকে। বেশির ভাগ সময় কথা গুলো মিথ্যা লেখা থাকে।  কেউ যদি এইগুলোতে বিশ্বাস করে তাহলে তার মানে হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট ঠিক মত দাওয়াত পৌছাননি! (নাউযুবিল্লাহ, আল্লাহ তা’আলার নিকট এরকম গোমরাহী আর মূর্খতা থেকে আশ্রয় চাইছি)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপ করবে সে তার স্থান জাহান্নামে বানিয়ে নিল”। অন্য বর্ণনায় ইচ্ছাকৃতভাবে কথাটি নেই। সূত্র: Knowledge, Bukhari :: Book 1 :: Volume 3 :: Hadith 106 – 110
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
আমি তোমাদের যা কিছু করতে বলেছি সেই সব ব্যতীত আর কোন কিছুই তোমাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করবে না, এবং যে সকল বিষয়ে সতর্ক করেছি সেগুলো ব্যতীত কোন কিছুই তোমাদের জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে না”। (মুসনাদে আস শাফেয়ীই এবং অন্যান্য)
কাজেই এরপর নতুন আর কোন পদ্ধতী বের করার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই।
ইনশাল্লাহ বিষয়টি আমাদের মুসলিম ভাই/বোনদের বোধগম্য হবে। আসুন আমারা নিজেরা সতর্ক হই আর অপরকে সতর্ক করি। আল্লাহ তা’আলা আমাদের হক কথা বুঝার তৌফিক দান করুন, আমীন।
তাকদিরের বিষয়ে এই বাংলা লেকচারটি শুনতে পারেনঃ

Post Your Comment

Thanks for your comment