ইবাদতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-
মুদ্রলেখক: সাখাওয়াৎ হোসেইন
আল্লাহ তাআলা বলেন,
طه مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَىٰ
ত্বা-হা- । তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ন করিনি। (সুরা ত্বাহা: ১-২)
তিনি আরো বলেন,
يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ
আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিনতা তাঁর কাম্য নয়। (সুরা বাক্বারাহ: ১৮৫)
এ প্রসঙ্গে কিছু হাদিস বর্ণনা করা হল-
১। আয়েশা (রা:) হতে বর্নিত, একদা নবী (সা:) তাঁর নিকট গেলেন, তখন এক মহিলা তাঁর কাছে (বসে) ছিল। তিনি বললেন, “এটি কে?” আয়েশা (রা:) বললেন, ‘অমুক মহিলা, যে প্রচুর নামায পড়ে।’ তিনি বললেন, “থামো! তোমরা সাধ্যমত আমল কর। আল্লাহর কসম! আল্লাহ ক্লান্ত হন না, যতক্ষন না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়।” আর সেই আমল তাঁর নিকট প্রিয়তম ছিল, যেটা তার আমলকারী লাগাতার ক’রে থাকে।1
’আল্লাহ ক্লান্ত হন না’ – এ কথার অর্থ এই যে, তিনি সওয়াব দিতে ক্লান্ত হন না। অর্থাৎ, তিনি তোমাদেরকে সওয়াব ও তোমাদের আমলের প্রতিদান দেওযা বন্ধ করেন না এবং তোমাদের সাথে ক্লান্তের মত ব্যবহার করেন না; যে পর্যন্ত না তোমরা নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে আমল ত্যাগ করে বস। সুতরাং তোমাদের উচিত, তোমরা সেই আমল গ্রহণ করবে, যা একটানা করে যেতে সক্ষম হবে। যাতে তাঁর সওয়াব ও তাঁর অনুগ্রহ তোমাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন থাকে।
২। আনাস (রা:) বলেন যে, তিন ব্যক্তি নবী (সা:) এর স্ত্রীদের বাসায় এলেন। তাঁরা নবী (সা:) এর ইবাদত সম্পর্কে জিঞ্জাসা করলেন। অত:পর যখন তাঁদেরকে এর সংবাদ দেওয়া হল তখন তাঁরা যেন তা অল্প মনে করলেন এবং বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে নবী (সা:) এর তুলনা কোথায়? তাঁর তো আগের ও পরের সমস্ত গোনাহ মোচন ক’রে দেওয়া হয়েছে। (সেহেতু আমাদের তাঁর চেয়ে বেশী ইবাদত করা প্রয়োজন)।’ সুতরাং তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, ‘আমি সারা জীবন রাতভর নামায পড়ব।’ দ্বিতীয়জন বললেন, ‘আমি সারা জীবন রোযা রাখব, কখনো রোযা ছাড়ব না।’ তৃতীয়জন বললেন, ‘আমি নারী থেকে দূরে থাকব, জীবনভর বিয়েই করব না।’ অত:পর রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁদের নিকট এলেন এবং বললেন, “তোমরা এই এই কথা বলেছ? শোনো! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করি, তার ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশী রাখি। কিন্তু আমি (নফল) রোযা রাখ এবং রোযা ছেড়েও দিই, নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই। আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” 2
৩। ইবনে মাসউদ (রা:) হতে বর্নিত, নবী (সা:) বলেন, “দ্বীনের ব্যাপারে নিজের পক্ষ থেকে কঠোরতা অবলম্বনকারীরা ধ্বংস হয়ে গেল। (অথবা ধ্বংস হোক।)” এ কথা তিনি তিনবার বললেন। 3
৪। আবূ হুরাইরাহ (রা:) হতে বর্নিত, নবী (সা:) বলেন, “নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তি অহেতুক দ্বীনকে কঠিন বানাবে, তার উপর দ্বীন জয়ী হয়ে যাবে। (অর্থাৎ মানুষ পরাজিত হয়ে আমল ছেড়ে দিবে।) সুতরাং তোমরা সোজা পথে থাক এবং (ইবাদতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। তোমরা সুসংবাদ নাও। আর সকাল-সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশ ইবাদত করার মাধ্যমে সাহায্য নাও।4
বুখারীর অন্য এক বর্ননায় আছে, “তোমরা সরল পথে থাকো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, সকাল-সন্ধ্যায় চল (ইবাদত কর) এবং রাতের কিছু অংশে। আর তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, তাহলেই গন্তব্যস্থলে পৌছে যাবে।”
অর্থাৎ, অবসর সময়ে উদ্যমশীল মনে আল্লাহর ইবাদত কর; যে সময়ে ইবাদত ক’রে তৃপ্তি পাওয়া যায় এবং তা মনে ভারী বা বিরক্তিকর না হয়। আর তাহলেই অভীষ্টলাভ করতে পারবে। যেমন বুদ্ধিমান মুসাফির উক্ত সময়ে সফর করে এবং যথাসময়ে সে ও তার সওয়ারী বিশ্রাম গ্রহন করে। (না ধীরে চলে এবং না তাড়াহুড়া করে।) ফলে সে বিনা কষ্টে যথা সময়ে গন্তব্যস্হলে পৌঁছে যায়।
৫। আনাস (রা:) হতে বর্নিত, একদা নবী (সা:) মসজিদে প্রবেশ করলেন। হঠাৎ দেখলেন যে, একটি দড়ি দুই স্তম্ভের মাঝে লম্বা ক’রে বাঁধা রয়েছে। তারপর তিনি বললেন, “এই দড়িটা কি (জন্য)”? লোকেরা বলল, ‘এটি যয়নাবের দড়ি। যখন তিনি (নামায পড়তে পড়তে) ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন এটার সঙ্গে ঝুলে যান।’ নবী (সা:) বললেন, “এটিকে খুলে ফেল। তোমাদের মধ্যে (যে নামায পড়বে) তার উচিত, সে যেন মনে স্ফূর্তি থাকাকালে নামায পড়ে। তারপর সে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তখন সে যেন শুয়ে যায়।5৬।
৬। আয়েশা (রা:) হতে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, যখন নামায পড়া অবস্থায় তোমাদের কারো তন্দ্রা আসবে, তখন তাকে ঘুমিয়ে যাওয়া উচিত, যতক্ষন না তার ঘুম চলে যাবে। কারন, তোমাদের কেউ যদি তন্দ্রা অবস্থায় নামায পড়ে, তাহলে সে অনুভব করতে পারবে না যে, সম্ভবত: সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে প্রকৃতপক্ষে নিজেকে গালি দিচ্ছে।6
৭। আবূ আব্দুল্লাহ জাবের ইবনে সামুরাহ (রা:) বলেন যে, ‘আমি নবী (সা:) এর সঙ্গে নামায পড়তাম। সুতরাং তাঁর নামাযও মধ্যম হত এবং তাঁর খুৎবাও মধ্যম হত।’7
৮। আবু জুহাইফা অহ্ব ইবনে আবদুল্লাহ (রা:) বলেন যে, নবী (সা:) (হিজরতের পর মদীনায়) সালমান ও আবূ দার্দার মাঝে ভাতৃত্ব স্হাপন করলেন। অত:পর সালমান (একদিন তাঁর দ্বীনী ভাই) আবূ দার্দার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে (তাঁর বাড়ী) গেলেন। তিনি (আবূ দার্দার স্ত্রী) উম্মে দার্দাকে দেখলেন, তিনি মলিন কাপড় পরে আছেন। সুতরাং তিনি তাঁকে বললেন, ‘তোমার এ অবস্থা কেন?’ তিনি বললেন, ‘তোমার ভাই আবূ দার্দার দুনিয়ার কোন প্রয়োজন নেই।’ (ইতোমধ্যে) আবূ দার্দাও এসে গেলেন এবং তিনি তাঁর জন্য খাবার তৈরী করলেন। অত:পর তিনি তাঁকে বললেন, ‘তুমি খাও। কেননা আমি রোযা রেখেছি।’ তিনি বললেন, ‘যতক্ষন না তুমি খাবে আমি খাব না।’ সুতরাং আবূ দার্দাও (নফল রোযা ভেঙ্গে দিয়ে তাঁর সঙ্গে) খেলেন। অত:পর যখন রাত এল, তখন (শুরু রাতেই) আবূ দার্দা নফল নামায পড়তে গেলেন। সালমান তাঁকে বললেন, ‘(এখন) শুয়ে যাও।’ সুতরাং তিনি শুয়ে গেলেন। কিছুক্ষন পর আবার তিনি (বিছানা থেকে) উঠে নফল নামায পড়তে গেলেন। আবার সালমান বললেন, ‘শুয়ে যাও।’ অত:পর যখন রাতের শেষাংশ এসে পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন, ‘এবার উঠ নফল নামায পড়।’ সুতরাং তাঁরা দু’জনে একত্রে নামায পড়লেন। অত:পর সালমান তাঁকে বললেন, ‘নিশ্চয় তোমার উপর তোমার প্রভুর অধিকার রয়েছে। তোমার প্রতি তোমার আত্মারও অধিকার আছে এবং তোমার প্রতি তোমার পরিবারেরও অধিকার রয়েছে। অতএব তুমি প্রত্যেক অধিকারীকে তার অধিকার প্রদান কর।’ অত:পর তিনি নবী (সা:) এর নিকট এসে তাঁকে সমস্ত ঘটনা শুনালেন। নবী (সা:) বললেন, “সালমান ঠিকই বলেছে।”8
৯। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ’স (রা:) বলেন, নবী (সা:) কে আমার ব্যাপারে সংবাদ দেওয়া হল যে, আমি বলছি, ‘আল্লাহর কসম! আমি যতদিন বেঁচে থাকর ততদিন দিনে রোযা রাখব এবং রাতে নফল নামায পড়ব।’ সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা:) আমাকে বললেন, “তুমি এ কথা বলছ?” আমি তাঁকে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! নি:সন্দেহে আমি এ কথা বলেছি, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক।’ তিনি বললেন, “তুমি এর সাধ্য রাখ না। অতএব তুমি রোযা রাখ এবং (কখনো) ছেড়ে দাও। অনুরূপ (রাতের কিছু অংশে) ঘুমাও এবং (কিছু অংশে) নফল নামায পড় ও মাসে তিন দিন রোযা রাখ। কারন, নেকির প্রতিদান দশগুন রয়েছে। তোমার এ রোযা জীবনভর রোযা রাখার মতো হয়ে যাবে।” আমি বললাম আমি এর অধিক করার শক্তি রাখি।’ তিনি বললেন, “তাহলে তুমি একদিন রোযা রাখ আর দু’দিন রোযা ত্যাগ কর।” আমি বললাম, ‘আমি এর বেশী করার শক্তি রাখি।’ তিনি বললেন, “তাহলে একদিন রোযা রাখ, আর একদিন রোযা ছাড়। এ হল দাঊদ (আ:) এর রোযা। আর এ হল ভারসাম্যপূর্ন রোযা।”
অন্য এক বর্ননায় আছে যে, “এটা সর্বোত্তম রোযা।” কিন্তু আমি বললাম, ‘আমি এর চেয়ে বেশী (রোযা) রাখার ক্ষমতা রাখি।’ রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, “এর চেয়ে উত্তম রোযা আর নেই।” (আব্দুল্রাহ বলেন,) ‘যদি আমি রসূল (সা:) এর নির্দেশ অনুযায়ী (প্রত্যেক মাসে) তিন দিন রোযা রাখার পদ্ধতি গ্রহণ করতাম, তাহলে তা আমার নিকট আমার পরিবার ও সম্পদ অপেক্ষা প্রিয় হত।’
অন্য এক বর্ননায় আছে, (নবী (সা:) আমাকে বললেন,) “আমি কি এই সংবাদ পাইনি যে, তুমি দিনে রোযা রাখছ এবং রাতে নফল নামায পড়ছ?” আমি বললাম, ‘সম্পূর্ন সত্য, হে আল্রাহর রসূল!’ তিনি বললেন,”পুনারয় এ কাজ করো না। তুমি রোযাও রাখ এবং (কখনো) ছেড়েও দাও। নিদ্রাও যাও এবং নামাযও পড়। কারন তোমার উপর তোমার দেহের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার চক্ষুদ্বয়ের অধিকার আছে। তোমার জন্য প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা রাখা যথেষ্ট। কেননা, প্রত্যেক নেকীর পরিবর্তে তোমার জন্য দশটি নেকী রয়েছে আর এটা জীবনভর রোযা রাখার মত।” কিন্তু আমি কঠোরতা অবলম্বন করলাম। যার ফলে আমার উপর কঠিন করে দেওয়া হল। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি সামর্থ্য রাখি।’ তিনি বললেন, “তুমি আল্লাহর নবী দাউদ (আ:) এর রোযা রাখ এবং এর চেয়ে বেশী করো না।” আমি বললাম, ‘দাউদের রোযা কেমন ছিল?’ তিনি বললেন, “অর্ধেক জীবন।” অত:পর আব্দুল্লাহ বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর বলতেন, ‘হায়! যদি আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) এর অনুমতি গ্রহণ করতাম (তাহলে কতই না ভাল হত)!’
আর এক বর্ননায় আছে, (নবী (সা:) আমাকে বললেন,) “আমি সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি সর্বদা রোযা রাখছ এবং প্রত্যহ রাতে কুরআন (খতম) পড়ছ।” আমি বললাম, ‘(সংবাদ) সত্যই, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু এতে আমার উদ্দেশ্য ভাল ছাড়া অন্য কিছু নয়।’ তিনি বললেন, “তুমি আল্লাহর নবী দাউদের রোযা রাখ। কারন, তিনি লোকের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ইবাদতগুযার ছিলেন। আর প্রত্যেক মাসে (একবার কুরআন খতম) পড়।” আমি বললাম, ‘হে আল্রাহর নবী! আমি এর অধিক করার শক্তি রাখি।’ তিনি বললেন, ”তাহলে তুমি কুড়ি দিনে (কুরআন খতম) পড়।” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী ক্ষমতা রাখি।’ তিনি বললেন, “তাহলে তুমি প্রত্যেক সাতদিনে (খতম) পড় এবং এর বেশী করো না (অর্থাৎ, এর চেয়ে কম সময়ে কুরআন খতম করো না।)” কিন্তু আমি কঠোরতা অবলম্বন করলাম। যার ফলে আমার উপর কঠিন করে দেওয়া হলো। আর নবী (সা:) আমাকে বলেছিলেন, “তুমি জান না, সম্ভবত: তোমার বয়স সুদীর্ঘ হবে।” আব্দুল্লাহ বলেন, সুতরাং আমি ঐ বয়সে পৌঁছে গেলাম, যার কথা নবী (সা:) আমাকে বলেছিলেন। অবশেষে আমি যখন বৃদ্ধ হয়ে গেলাম, তখন আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম, হায়! যদি আমি আল্লাহর নবী (সা:) এর অনুমতি গ্রহণ করে নিতাম।
অন্য এক বর্ননায় আছে, (নবী (সা:) আমাকে বললেন,) “আর তোমার উপর তোমার সন্তানের অধিকার আছে….।”
অন্য এক বর্ননায় আছে, “তার কোন রোযা নেই (অর্থাৎ, রোযা বিফল যাবে) সে সর্বদা রোযা রাখে।” এ কথা তিনবার বললেন।
অন্য এক বর্ননায় আছে, “আল্লাহর নিকট প্রিয়তম রোযা হচ্ছে দাউদ (আ:) এর রোযা এবং আল্লাহর নিকট নামায হচ্ছে দাউদ (আ:) এর নামায। তিনি মধ্য রাতে শুতেন এবং তার তৃতীয় অংশে নামায পড়তেন এবং তার ষষ্ঠ অংশে ঘুমাতেন। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন রোযা ছাড়তেন। আর যখন শত্রুর সামনা-সামনি হতেন তখন (রণভূমি হতে) পলায়ন করতেন না।”
আরও এক বর্ননায় আছে, (আব্দুল্লাহ বিন আম্র) বলেন, আমার পিতা আমার বিবাহ এক উচ্চ বংশের মহিলার সঙ্গে দিয়েছিলেন। তিনি পুত্রবধুর প্রতি খুবই লক্ষ্য রাখতেন। তিনি তাকে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞাস করতেন। সে বলত, ‘এত ভাল লোক যে, সে কদাচ আমার বিছানায় পা রাখেনি এবং যখন থেকে আমি তার কাছে এসেছি, সে কোনদিন আবৃত জিনিস স্পর্শ করেনি (অর্থাৎ, মিলনের ইচ্ছাও ব্যক্ত করেনি।)’ যখন এই আচরন অতি লম্বা হয়ে গেল, তখন তিনি (আব্দুল্লাহর পিতা) এ কথা নবী (সা:) কে জানালেন। অত:পর তিনি বললেন, “তাকে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বল।” সুতরাং পরবর্তীতে আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। অত:পর তিনি বললেন, “তুমি কিভাবে রোযা রাখ?” আমি বললাম, ‘প্রত্যেক দিন।’ তিনি বললেন, “কিভাবে কুরআন খতম কর?” আমি বললাম, ‘প্রত্যেক রাতে।’ অত:পর তিনি ঐ কথাগুলি বর্ননা করলেন, যা পূর্বে গত হয়েছে। তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর) তাঁর পরিবারের কাউকে (কুরআনের) ঐ সপ্তম অংশ পড়ে শুনাতেন, যা তিনি (রাতের নফল নামাযে) পড়তেন। দিনের বেলায় তিনি পুন: পড়ে নিতেন, যেন এমন আছে যা এই দুটির মধ্যে একটিতে আছে।9
১০। রাসূলুল্লাহ (সা:) এর একজন কেরানী আবূ রিবযী হানযালাহ বিন রাবী’ উসইয়িদী (আ:) বলেন, একদা আবূ বকর (রা:) আমার সঙ্গে সাক্ষাত করে বললেন, ‘হে হানযালাহ! তুমি কেমন আছ?’ আমি বললাম, ‘হানযালাহ মুনাফিক হয়ে গেছে!’ তিনি (আশ্চর্য হয়ে) বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! এ কি কথা বলছ?’ আমি বললাম, ‘(কথা এই যে, যখন) আমরা রাসূলুল্লাহ (সা:) এর নিকটি থাকি, তিনি আমাদের সামনে এমন   ভঙ্গিমায় জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করেন, যেন তা আমরা স্বচক্ষে দেখছি। অত:পন যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা:) এর নিকট থেকে বের হয়ে আসি, তখন স্ত্রী সন্তান-সন্ততি ও অন্যান্য (পার্থিব) কারবারে ব্যাস্ত হয়ে অনেক কিছু ভুলে যাই।’ আবূ বকর (রা:) বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমাদেরও তো এই অবস্থা হয়।’ সুতরাং আমি ও আবূ বকর গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর খিদমতে হাজির হলাম। অত:পর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! হানযালাহ মুনাফিক হয়ে গেছে।’ রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, “সে কি কথা?” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা যখন আপনার নিকটে থাকি, তখন আপনি আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের কথা এমনভাবে শুনান; যেমন নাকি আমরা তা প্রত্যক্ষভাবে দেখছি। অত:পর আমরা যখন আপনার নিকট থেকে বের হয়ে যাই এবং স্ত্রী সন্তান-সন্ততি ও কারবারে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তখন অনেক কথা ভুলে যাই। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, “সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যদি তোমরা সর্বদা এই অবস্থায় থাকতে, যে অবস্থায় তোমরা আমার নিকটে থাক এবং সর্বদা আল্লাহর স্মরনে মগ্ন থাকতে, তহলে ফিরিশতাগণ তোমাদের বিছানায় ও তোমাদের পথে তোমাদের সঙ্গে মুসাফাহা করতেন। কিন্তু ওহে হানযালাহ! (সর্বদা মানুষের এক অবস্থা থাকে না।) কিছু সময় (ইবাদতের জন্য) ও কিছু সময় (সাংসারিক কাজের জন্য)।” তিনি এ কথা তিনবার বললেন।10
১১। ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, কোন এক সময় নবী (সা:) খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন যে, একটি লোক (রোদে) দাঁড়িয়ে আছে। অত:পর তিনি তাঁর সম্বন্ধে জিঞ্জাসা করলেন। লোকেরা বলল, ‘আবূ ইসরাঈল। ও নযর মেনেছে যে, ও রোদে দাঁড়িয়ে থাকবে, বসবে না, ছায়া গ্রহণ করবে না, কথা বলবে না এবং রোযা রাখবে।’ নবী (সা:) বললেন, “তোমরা ওকে আদেশ কর, ও যেন কথা বলে, ছায়া গ্রহণ করে, বসে এবং রোযা পুরা করে।11

  1. সহীহুল বুখারী ৪৩, ১১২২, ১১৫১, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৮৭, ৬৪৬১, ৬৪৬২, ৬৪৬৪. ৬৪৬৫. ৬৪৬৬. ৬৪৬৭, মুসলিম ৭৪১, ৭৮২, ৭৮৩, ৭৮৫, ১১৫৬, ২৮১৮, নাসারী ৭৬২, ১৬২৬, ১৬৪২, ১৬৫২, ২১৭৭, ২৩৪৭, ২৩৪৯, ২৩৫১, ৫০২৫, আবু দাউদ ১৩১৭, ১৩৬৮, ১৩৭০, ২৪৩৪,, ইবনু মাজাহ ১৭১০, ৪২৩৮, আহমাদ ২৩৫২৩, ২৩৬০৪, ২৩৬৪২, ২৩৬৬০, ৪২৪০৯, ২৫৬০০।
  2. সহীহুল বুখারী ৫০৬৩,মুসলিম ১৪০১, নাসায়ী ৩২১৭, আহমাদ ১৩১২২, ১৩০১৬, ১৩৬৩১
  3. মুসলিম ২৬০৭, আবু দাউদ ৪৬০৮, আহমাদ ৩৬৪৭
  4. সহীহুল বুখারী ৩৯, ৫৬৭৩, ৬৪৬৩, মুসলিম ২৮১৬, নাসয়ী ৫০৩৪, ইবনু মাজাহ ৪২০১, আহমাদ ৭১৬২, ৭৪৩০, ৭৫৩৩, ২৭৪৭০
  5. সহীহুল বুখারী ১১৫০, মুসলিম ৭৮৪, নাসায়ী ১৬৪৩, আবূ দাউদ ১৩১২, ইবনু মাজাহ ১৩৭১, আহমাদ ১১৫৭৫, ১২৫০৪, ১২৭০৮, ১৩২৭৮
  6. সহীহুল বুখারী ২১২, মুসলিম ৪৮৬, তিরমিযী ৩৫৫. নাসায়ী ১৬২, আবু দাউদ ১৩১০, ইবনু মাজাহ ১৩৭০, আহমাদ ২৩৭৬৬, ২৫১৩৩, ২৫১৭১, ২৫৬৯৯, মওয়াত্তা মালেক-২২৫৯, দারেমী ১৩৮৩
  7.  মুসলিম ৮৬৬, তিরমিযী ৫০৭, নাসায়ী ‍১৪১৫, ১৪১৭, ১৪১৮, ১৪৩৫, ১৫৮২, ১৫৮৩, ১৫৮৪, ১৬০০, ১৬০২, আবূ দাউদ ১০৯৩, ১০৯৪, ১১০১, ১২৯৩, ইবনু মাজাহ ১১০৬, ১১১৬, আহমাদ ২০৩০৬, ২০৩১৬, ম২০৩২২, ২০৩৩৫,দরেমী ১৫৫৭
  8. সহীহুল বুখারী ১৯৬৮, ৬১৩৯, তিরমিযী ২৪১৩
  9.  সহীহুল বুখারী ১৯৯৭৬, ১১৩১, ১১৩২, ১১৫৩, ১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৮৭৭, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮০, ৩৪১৮, ৩৪১৯, ৩৪২০, ৫০৫২, মুসলিম ১১৫৯, তিরমিযী ৭৭০, নাসায়ী ১৬৩০, ২৩৪৪, ২৩৮৮, ২৩৮৯, ২৩৯০, ২৩৯১. ২৩৯২, ২৩৯৩, ২৩৯৬, ২৩৯৪, ২৩৯৭, ২৩৯৯ আবূ দাউদ ১৩৮৮, ১৩৮৯, ১৩৯০, ১৩৯১, ১৪২৭, ২৪৪৮, ইবনু মাজাহ ১৩৪৬, ১৭১২, আহমাদ ৬৪৪১, ৬৪৫৫, ৬৪৮০, ৬৪৯১, ৬৭২১
  10.  মুসলিম ২৭৫০, তিরমিযী ২৪৫২, ২৫১৪, ইবনু মাজাহ ৪২৩৯, আহমাদ ১৭১৫৭, ১৮৫৬৬
  11. সহীহুল বুখারী ৬৭০৪, আবূ দাউদ ৩৩০০, ইবনু মাজাহ ২১৩৬, মুওয়াত্তা মালেক-১০২৯

Post Your Comment

Thanks for your comment