সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি : সহীহ আল বুখারী

সকল প্রসংশা মহান আল্লাহ পাকের জন্য যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদাত করার জন্য । এবং তাঁর ইবাদত করতে গিয়ে কোন ভুল করে ফেললে তা সংশোধনের সুন্দর ব্যবস্থা দিয়েছেন (যেমন সালাতে-সহু সেজদা) । সালাত এবং সালাম প্রিয় নাবী সাঃ জন্য যিনি আমাদেরকে সাহু সিজদা কিভাবে করতে হবে তা একধিকবার ব্যবহারিকভাবে শিক্ষা দিয়েছেন । আসুন আমরা সরাসরি হাদীসের আলোকে প্রিয় নাবী সাঃ এর সাহু সিজদার হাদীসগুলি দেখি এবং এর সাথে আমাদের আমালগুলি মিলিয়ে দেখি।



সহীহ আল বুখারী : ১১৫১-১১৬০ মোট ১০টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে । দেখুনতো এর ভেতরে একটি হাদীসও আছে কিনা আমরা যেভাবে সাহু সিজদা আদায় করি তার পক্ষে ।

১১৫১ আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সালাত (নামায) রাসূল ﷺ দু' রাকা'আত আদায় না করে বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুসল্লিগণ তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন সালাত (নামায) সমাপ্ত করার সময় হল এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম, তখন তিনি সালাম ফিরানোর আগে তাক্‌বীর বলে বসে বসেই দু'টি সিজ্‌দা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।

১১৫২ আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু বুহায়না (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ লাহ্‌ যুহ্‌রের দু' রাকা'আত আদায় করে দাঁড়িয়ে গেলেন। দু' রাকা'আতের পর তিনি বসলেন না। সালাত (নামায) শেষ হয়ে গেলে তিনি দু'টি সিজ্‌দা করলেন এবং এরপর সালাম ফিরালেন।  

১১৫৩ আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ যুহ্‌রের সালাত (নামায) পাঁচ রাকা'আত আদায় করলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, সালাত (নামায) কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, এ প্রশ্ন কেন? (প্রশ্নকারী) বললেন, আপনি তো পাঁচ রাকা'আত সালাত (নামায) আদায় করেছেন। অতএব তিনি সালাম ফিরানোর পর দু'টি সিজ্‌দা করলেন। 

১১৫৪ আদম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী ﷺ আমাদের নিয়ে যুহর বা আসরের সালাত (নামায) আদায় করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন যুল-ইয়াদাইন (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূল ﷺ! সালাত (নামায) কি কম হয়ে গেল? নাবী ﷺ তাঁর সাহাবীগণকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে যা বলছে তা কি ঠিক? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি আরও দু রাকা'আত সালাত (নামায) আদায় করলেন। পরে দু'টি সিজ্‌দা করলেন। সা'দ (রাঃ) বলেন, আমি উরাওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ)-কে দেখেছি, তিনি মাগরিবের দু' রাকা'আত সালাত (নামায) আদায় করে সালাম ফিরালেন এবং কথা বললেন। পরে অবশিষ্ট সালাত (নামায) আদায় করে দু'টি সিজ্‌দা করলেন। এবং বললেন, নাবী ﷺ এরূপ করেছেন।

১১৫৫ আবদুল্লাহ‌ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ দু' রাকা'আত আদায় করে সালাত (নামায) শেষ করলেন। যুল-ইয়াদাইন (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূল ﷺ ‌! সালাত (নামায) কি কম করে দেয়া দেওয়া হয়েছে, না কি আপনি ভুলে গেছেন? রাসূল ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, যুল-ইয়াদাইন কি সত্য বলছে? মুসল্লীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূল ﷺ দাঁড়িয়ে আরও দু' রাকা'আত সালাত (নামায) আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং তাক্‌বীর বললেন, পরে সিজদা করলেন, স্বভাবিক সিজ্‌দার মতো বা তাঁর চেয়ে দীর্ঘ। এরপর তিনি মাথা তুললেন।  

১১৫৬ সুলাইমান ইবনু হারব (রহঃ) সালামা ইবনু আলকামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনু সীরীন) (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, সিজ্‌দায়ে সহুর পর তাশাহ্‌হুদ আছে কি? তিনি বললেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর হাদীসে তা নেই। 

১১৫৭ হাফ্‌স ইবনু উমর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী ﷺ বিকালের কোন এক সালতে দু' রাকা'আত আদায় করে সালাম ফিরালেন। মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আমার প্রবল ধারনা, তা ছিল আসরের সালাত (নামায)। তারপর মসজিদের একটি কাষ্ঠ খণ্ডের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং উহার উপর হাত রাখলেন। মুসল্লীগণের ভিতরে সামনের দিকে আবূ বক্‌র (রাঃ) ও উমর (রাঃ) ও ছিলেন। তাঁরা উভয়ে তাঁর সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলেন। তাড়াহুড়া-কারী মুসল্লিগণ বেরিয়ে পড়লেন। তারা বলাবলি করতে লাগলেন, সালাত (নামায) কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে? কিন্তু এক ব্যাক্তি, যাকে নাবী ﷺ যূল ইয়াদাইন ডাকতেন, জিজ্ঞাসা করল আপনি কি ভুলে গেছেন, না কি সালাত (নামায) কমিয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি ভুলিনি আর সালাত (নামায)ও কম করা হয়নি। তখন তিনি দু' রাকা'আত সালাত (নামায) আদায় করে সালাম ফিরালেন। তারপর তাক্‌বীর বলে সিজ্‌দা করলেন, স্বভাবিক সিজ্‌দার ন্যায় বা তার চেয়ে দীর্ঘ। তারপর মাথা উঠিয়ে আবার তাক্‌বীর বলে মাথা রাখলেন অর্থাৎ তাক্‌বীর বলে সিজ্‌দায় গিয়ে স্বভাবিক সিজ্‌দার মত অথবা তার চাইতে দীর্ঘ সিজ্‌দা করলেন। এরপর মাথা উঠিয়ে তাক্‌বীর বললেন।

১১৫৮ কুতাইবা ইবনু সা'য়ীদ (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু বুহাইনা আসা’দী (রাঃ) যিনি বনূ আবদুল মুত্তালিবের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তিবদ্ধ ছিলেন তাঁর থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ যুহ্‌রের সালাত (নামায) (দু' রাকা'আত আদায় করার পর) না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। সালাত (নামায) পূর্ণ করার পর সালাম ফিরাবার আগে তিনি বসা অবস্থায় ভুলে যাওয়া বৈঠকের স্থলে দু'টি সিজ্‌দা সম্পূর্ণ করলেন, প্রতি সিজ্‌দায় তাক্‌বীর বললেন। মুসল্লীগণও তাঁর সঙ্গে এ দু'টি সিজ্‌দা করল। ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে তাক্‌বীরের কথা বর্ণনায় ইবনু জুরাইজ (রহঃ) লায়স (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।  

১১৫৯ মু'আয ইবনু ফাযালা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেনঃ যখন সালাত (নামায)-এর জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে আযান শুনতে না পায় আর তার পশ্চাঁদ-বায়ূ সশব্দে নির্গত হতে থাকে। আযান শেষ হয়ে গেলে সে এগিয়ে আসে। আবার সালাত (নামায)-এর জন্য ইকামত দেওয়া হলে সে পিঠ ফিরিয়ে পালায়। ইকামত শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরে আসে। এমন কি সে সালাত (নামায) রত ব্যাক্তির মনে ওয়াস্‌ওয়াসা সৃষ্টি করে এবং বলতে থাকে, অমুক অমুক বিষয় স্মরণ করো, যা তার স্মরণে ছিল না। এভাবে সে ব্যাক্তি কত রাকা'আত সালাত (নামায) আদায় করেছে তা স্মরণ করতে পারে না। তাই, তোমাদের কেউ তিন রাকা'আত বা চার রাকা'আত সালাত (নামায) আদায় করেছে, তা মনে রাখতে না পারলে বসা অবস্থায় দু'টি সিজ্‌দা করবে।

১১৬০ আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ল্লহা্‌ বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাত (নামায) দাঁড়ালে শয়তান এসে তাকে সন্দেহে ফেলে, এমনকি সে বুঝতে পারে না যে, সে কত রাকা'আত সালাত (নামায) আদায় করেছে। তোমাদের কারো এ অবস্থা হলে সে যেন বসা অবস্থায় দু'টি সিজ্‌দা করে। 

Post Your Comment

Thanks for your comment