হে প্রাপ্তবয়স্ক! আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, শীঘ্রই এসে কুরান হাদীসের সাথে যোগাযোগ করুন…!

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না 
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে- 
লেখক-আবু আব্দুল্লাহ
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! খেয়াল আছে? ছোট বেলায় যখন সারাটা দিন বকুআসবাজী করে সন্ধাবাতী জ্বলে ওঠার পরেও যদি বাড়িতে ফিরে পড়তে না বসতেন! কিংবা পরীক্ষার সময় সন্ধ্যা ঘনীয়ে দিয়েও যদি বাইরে টো-টো করেই ঘুরে বেড়াতেন, তো (বাড়ি ফিড়লে) কেমন মার পরতো!? অথচ আজ প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েও আমাদের মধ্যে যারা সন্ধ্যা ঘনীয়ে দিয়ে (প্রায় অর্ধেক জীবন পার করেও) আপন প্রতিপালকের শিক্ষা দেওয়া পাঠ অধ্যয়ন করতে তড়ি-ঘড়ি পড়তে বসলো না, বরং এখনোও ঐ টো-টো করে ঘুরে বেড়াতে চায়, আর শে্ষে কিনা রাত (জীবন প্রদীপ) ঘনীয়ে এলে ঘুমোবার (মৃত্যুর) জন্য বাধ্য হয়েই ঘরে (কবরে) ঢুকতে যায়, তাহলে এদের পিঠেও কি আবার ভীষন মার পরবে না ? নাকি পূর্ব রাতের গোঁসা ঝেরে ফেলে নতুন এক সকালে (কেয়ামতে) বলে বেড়াবে যে, “…আমরা তো অজ্ঞ ছিলাম আর ঐ বাপ-দাদার বকু আসবাজী আড্ডার গাড্ডায় শুধু মজে ছিলাম, তাই এই সিলেবাস (কুরান ও সহীহ হাদিসের বাণী) পাঠ করার সুযোগ আর হয়নি! …অতএব আজ তা পড়তে শুনতে দেবার সুযোগ দেওয়া হোক!!?” কিন্তু কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পরীক্ষার্থীকে এমন সুযোগ কখনও কি দেওয়া হয়েছে জানেন ? বরং খুব ভালো করেই জানেন যে, সে দিন তো ভাই রেজাল্ট দেওয়ার দিন, খাতা দেখাবার দিন…অর্থাৎ খাতার মধ্যে বাপ চাচা’র দেওয়া কলমের আঁচড়ে আঁকি বুঁকি কাটার ঝুঁকি এড়াতে গিয়ে সেদিন নিজেকে ‘অজ্ঞ বুদ্ধিহীন’ বলে অজুহাত অবতারনা করার দিন নয়! “.....সেদিন তো মানুষুকে অবহিত করানো হবে সে আগে কি পাঠিয়েছে আর কি পেছনে রেখে গেছে । বস্তুতঃ মানুষ নিজের সম্বন্ধে সম্যক অবগত, যদিও সে নানা অজুহাতের অবতারনা করে” (সূরাহ ক্বিয়ামাহ/১৩-১৫) ।
হ্যাঁ ঠিকই তো আমাদের মধ্যে কেই বা আছেন যিনি সুস্থ মস্তিষ্কধারী হয়েও কিনা খামোখা একটা বাজে অজুহাতের আড়ালে নিজেকে অজ্ঞ সাজিয়ে রাখেন ? তাই তো দেখবেন যখন জীবন মরণের প্রশ্ন এসে যায়, তখন কেউ এতোটুকু জ্ঞান বুদ্ধি তো অবশ্যই ধরেন যে, নিজের রোগ সারাবার জন্য কোনও স্বনামধন্য ‘এক্সপার্ট ডক্ট্রর’ এর আনুগত্যকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে জাহির করেন ! অর্থাৎ এক্ষেত্রে তিনি আর অজ্ঞ না সেজে বরং স্বাজাতীদ্রোহী হয়েও তার বাপ দাদার সাথে দহরম-মহরম থাকা কোনো ফ্যামিলি ডক্টরের আন্ডারেই থেকে যাওয়াটাকে আর পছন্দ করেন না ! অথচ বড়ই আশ্চর্য ! যে, এই আত্মার ঈমান-আক্বিদার প্রশ্নে কিংবা দৈহিক আমলের ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটে যাওয়ার রটনা যখন ঘটনা হয়েই দাঁড়ায়, তখনও কিন্তু কিছু প্রাপ্ত বয়স্কগণ! (বরং অধিকাংশরাই) দুই কানে আঙুল ঢুকিয়েই রাখেন! আর না হয় স্বাজা্তিবাৎসল্য প্রদর্শনার্থে বাপ দাদার অন্ধ ভক্তিরসে আঙুল চুবিয়ে, আঙুল ভুষেই চলেন-- এতেই নাকি ওরা পরিতৃপ্ত!! অর্থাৎ ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’ অনিযায়ী ওরা ঐ ঘটনাসমূহকেই রটনা বানাবার তালে বাপ দাদাদের দেয়া আবেগটাকে আগলে রেখে আগে থেকেই নির্ধারিত যুক্তির কাছে তা গ্রাহ্য করিয়ে মুক্তি পেতে চান !! সুতরাং কোনো ‘এক্সপার্ট ডাক্তার’ এর কাছে যাওয়ার আর প্রয়োজন বোধটাও করেন না । আসলে এসব ঈমান-আক্বিদা-আমলের প্রশ্নে যতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হয়, ঠিক তত টুকু হিসেবেই বাপ দাদাদের খাড়া করা সবসে বড়া ফ্যামীলি ডক্টরই তখন ভরোসেমন্দ হয়ে দাঁড়ান ! বড়ই আশ্চর্য !
আচ্ছা মানলাম যে, আমাদের বাবা দাদাগণ বড় বড় ডাক্তারের কথাই বলেন-ওঁদেরকেই মেনে চলেন, কাজেই আপন সন্তানদের ক্ষেত্রেও যে তাদের ভুল ট্রিটমেন্ট করতে পারেন না-এই বিশ্বাস টুকুর জন্যই তো এত বড় ভরসা! কিন্তু ভাই! তাই বলে ‘একটা সামান্য (?)’ …হ্যাঁ হ্যাঁ ‘একদম সামান্য(?) ভুলেও’ কি (বাপ-দাদাদের অজান্তেই!) আমাদের ভব্যিষতটা অন্ধকার হয়ে যেতে পারে না ? এই দেখুন যেমন, বাপ দাদার ফ্যামিলি ডক্টর (মস্ত বড় ডাক্তারই বটে) আমাকে দেখতে এসেছেন । আর এদিকে আমাদের প্রতিবেশী ডাক্তারও বহুক্ষণ হ’ল আমার ‘পাশেই’ বসে আছেন (ইনিও মস্ত বড় ডাক্তার বটে, তবে অন্য-বিরাদরী, অন্য-সম্প্রদায়ের!) এবার দু’ডাক্তার মিলে ইয়া বড় একটা বোতল নেড়ে চেড়ে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, খুউব ভালো খুউব ভালো ওষুধ…!! যাইহোক ফ্যামিলি ডাক্তার সাহেব ওষুধটা আ্মাকে ধরিয়ে খাওয়ার নিয়মটা তাঁর প্রেসক্রিপশানে লিখে দিয়ে বিদায় নিলেন । এরপর ‘প্রতিবেশী অন্য বিরাদরীর’ ডাক্তার সাহেবও বেচারা আমার প্রতি
স্নেহবৎসল্যে তাকিয়ে শেষে কিনা তিনিও খচ-খচ করে একখানা চিরকুট লিখে দিয়ে বিদায় নিলেন । তো ব্যাপার কী ভাই! হ’লটা কী ? এই তো এক হাতে বাপ-দাদার ডাক্তারের হাতে লেখা উক্তি আর অন্য হাতে অন্য বিরাদরী মার্কা ডাক্তারের উক্তি ?! কিন্তু এই রে! বোতল খোলার আগেই যে কোতল হওয়ার উপক্রম! হ্যাঁ ভাই, ডাক্তারদ্বয়ের ব্যবস্থাপত্র খোলার পরেই যে পাকস্থলির নাড়ী ভুঁড়ি গুড়ি মেরে পাকিয়ে যেতে বসেছে! কেননা, একজনের উক্তি… “ওষুধটা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খাবে, না খেলে অসুখ বেড়ে যাবে, মরে যাবে” । আর অন্য জনের উক্তি ……“ওষুধটা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খাবে না, খেলে অসুখ বেড়ে যাব্ মরে যাবে” !!
এবার বলুন কার উপর ভরসা করলেই ভব্যিষতটা আমার ফরসা হয়েই থাকবে ? যাইহোক এক্ষেত্রে নিজের ভব্যিষতটাকে অন্ধকারময় করে দিতে নিশ্চয়ই ওঁদের (ডাক্তারদ্বয়ের) ইগো’র ঝগড়ায় ব্যাগরা দিয়ে সামান্য একটা কমার (,) চক্করে নিজেকে কোমায় চলে যেতে দেবো না ?! বরং ঘটনা কোনটা, রটনা কোনটা, সেই দোটানায় না ভুগে সরাসরি ‘এক্সপার্ট ডাক্তার’ এর অভিমুখীই হব?! এটাই বুদ্ধিমত্তার কাজ ? আশ্চর্য! ঠিক এই স্বাভাবিক স্বতঃসিদ্ধ বুদ্ধিটাকেই প্রয়োগ করতে কিন্তু স্বয়ং আমাদের প্রতিপালক আমাদের প্রতি সেই কবেই হুকুম লাগিয়েছেন যে, “…হে মুঊমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের(সা) আর তাদের, যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী; অতঃপর তোমাদের মাঝে কোনো বিষয়ে মতভেদ ঘটলে তা পেশ করো আল্লাহ ও রাসূলের কাছে—যদি তোমরা ঈমান রাখো আল্লাহে ও আখিরাতে । এটাই উত্তম (পন্থা) এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর” (কুরআন/৪:৫৯) ।
সুতরাং এই পবিত্র আয়াতের প্রথম অংশে দেখা যাচ্ছে যে, আল্লাহ এবং আখিরাতে ঈমান রাখনেওয়ালারা অর্থাৎ এককথায় মুঊমিনগণ মাত্রই কথা শুনবে-মানবে (১নং) আল্লাহর (২নং) তাঁর রাসূলের (সা) এবং (৩নং) নিজেদের মধ্যে যাঁরা ক্ষমতার অধিকারী (ঈমান-আক্বিদাহ’র ময়দানে তথা আমলের ক্ষেত্রে যাঁরা বড় বড় ডাক্তার, মোক্তার, ঈমাম, খলিফা) তাঁদের । কিন্তু ভাআলো করে লক্ষ্য করলেই আয়াতের দ্বিতীয় অংশেই খুউব বুঝা যাবে যে, আমাদের নিজেদের মধ্যে (ফ্যামিলি ডাক্তার বা প্রতিবেশী অন্য বিরাদরী ডাক্তারের সাথে) কোনো বিষয়ে যখনই মতবিরোধ দেখা দেবে, তৎক্ষনাত আমাদের জন্য ঐ (৩নং) ‘ক্ষমতার অধিকারী’ (ডাক্তার, ঈমাম, খলিফা সবাই) উধাও হয়ে যাবেন ! থাকবেন শুধু ঐ (১নং) আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা).…. অথচ আজও মতভেদের প্রশ্নে আশ্চর্যজনক ভাবে ঐ অধিকাংশরা ‘আখিরাতে ঈমান রেখেও(?)’ শেষে কিনা আপন প্রতিপালকের ফরমান অস্বীকার করে কাফীর রুপেই মরতে চলেছে ! হ্যাঁ হ্যাঁ যদিও ঐ অধিকাংশরা আল্লাহর ওপর আবার ঈমানও রাখছে । কিন্তু হায়! তবুও “….তাদের অধিকাংশরাই আল্লাহর উপর ঈমান আনা সত্ত্বেও মুশরিক” (কুরআন/১২;১০৬) । আসলে এই ঈমান-আক্বিদা-আমলের মতভেদমূলক প্রশ্নে “…যখনই তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন (কুরান-সহীহ হাদিস) তা তোমরা অনুসরন করো, তো তারা বলে-‘বরং আমরা তো সেটাই অনুসরন করে চলবো যেটাতে আমাদের বাপ-দাদাগণকে পেয়েছি’ । যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছু বুঝতে অপারক (লাআইয়াঅক্বিলূনা) হয়ে থাকে এবং তারা সৎ পথে পরিচালিত নাও হয়ে থাকে তবুও? (দ্রঃ০২;১৭০) । সত্যিই হাস্যকর ব্যাপার যে, এই সব বাপ-দাদাগণের নাতি-পোতাগণ কান,মুখ,চোখ খোলা রেখেও শুধু শুধু ঐ ‘লাআ-ইয়াক্বিলুন’ বাপ দাদাদের ভরসায় নিজেদের আক্বেল গুড়ুম করে বসে আছেন । আসলে চোখ কান সহী সালামত থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা তারা যদি খুলে দেখতে না চান, তবে তারা আর কি করে কোনো মতভেদ বিষয়ক ব্যাপার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে পেশ করবেন ? সুতরাং এসব ক্ষেত্রে তো স্বাভাবিক ভাবেই নিজেদের গোঁ ধরে রাখায় সরাসরি কুফরীই করছেন তারা! (জেনে বা নাজেনে আল্লাহর হুকুম অমান্য করায়) । তাই দেখবেন এদেরকে ভতসর্না করে আল্লাহ পরবর্তী আয়াতেই বলে রেখেছেন যে, “…যারা কুফরী করে তাদের উপমা তো এরকম –যেমন কেউ কোনো এমন জীবকে ডাকে যে হাঁক ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনে না কালা,বোবা, অন্ধ সুতরাং এরা বুঝবে না” (কুরান/০২;১৭১) । হ্যাঁ বড় আশ্চর্য ব্যাপারই বটে যে, ওদের বাপ দাদাগণ কিংবা বাপ দাদাদের ডাক্তার, মোক্তার, ঈমামগণ কেউ যদি কোনো কিছু বুঝতে ‘ভুল’ করেই থাকেন অথবা সঠিক তথ্য ‘জানতে না পেরে’ (চোখ বন্ধ করে) থাকেন, তবুও নাকি ওরা তিনাদের জারি করা প্রেসক্রিপশনেরেই বোতল মুখ খুলে ধরে তাই গিলতে থাকবেন… এটাও পাকে চক্রে গোঁয়ারতুমি (আল্লাহর সাথে) নয় তো আর কি? অথচ ওদের এই ব্যাপারটা যে কত ঘৃণ্য এবং কত বেশী বুদ্ধিহীনতার পরিচয় (মাথা মগজবালা মানুষনামক প্রানীর ক্ষেত্রে) । সেটা তুলে ধরতেও স্বয়ং আল্লাহ আরও একবার অন্য আয়াতে প্রায় একই কথা আবারও উল্লেখ করে বলছেন যে, “যখনই ওদেরকে বলা হয়, আল্লাহ
যা নাযিল করেছেন তার দিকে তথা রাসূলের দিকে (কুরান হাদিসের দিকে) এসো, তো ওরা বলে ‘আমরা আমাদের বাপ দাদাগণকে যাতে (যে মতের ও পথের অনুসারী) পেয়েছি সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট” । যদিও ওদের বাপ দাদারা কিছু জানতে না পেরে (লাআয়াঅ’লামুন) থাকে এবং তারা সৎ পথে পরিচালিত নাও হয়ে থাকে- তবুও কি? (দ্রঃ ০৫/১০৪) । হ্যাঁ হ্যাঁ তবুও নাকি ওদের বাপ দাদাদের বাতলানো প্রেসক্রিপশানই ওদের জন্য যথেষ্ট !!(নাউযোবিল্লাহ)
যাইহোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা) প্রতি নিঃস্বর্ত আনুগত্য করার সাথে সাথে যদি অন্য কারও প্রতিও অন্ধ-আনুগত্য থাকে তবে তো অমন মুশরিকদের জন্য ঐ অন্য কারও বাতলে দেওয়া ব্যবস্থা পত্রটা তকন যথেষ্ট বলেই মনে হবে । আর আজ হচ্ছেও তাই । আসলে আল্লাহর দেওয়া তথা তাঁর রাসূলের (সা) হাতে কলমে পরিবেশন করে যাওয়া এই ‘আদ দ্বীন উল ইসলাম’ (পুর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার) সঠিক নিয়ম-নীতি সমূহকে জেনে নেওয়াটা ওদের ওদের জন্য আলু বেগুনকে চিনে নেওয়ার চেয়েও গুরুত্বহীন হয়ে গেছে (নাউজোবিল্লাহ) । তাই তো দেখবেন ওদের বাপ দাদা যেটা করছে বলছে দিচ্ছে সেটাকেই যথেষ্ট মনে করে ওরা আপন ঈমান আমলের ঝোলায় তা ঢুকিয়ে নিচ্ছে । অতএব সন্ধ্যা ঘনিয়ে পরে নিশ্চিন্তেই ঘরমুখো (কবর মুখো) হচ্ছে! (আপন প্রতিপালকের কাছে বকা ঝকা খাওয়ার কোনো ভয় ডর নেয়) অথচ ওরাই আবার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর কিনা আলু বেগুনের গুরুত্ব বুঝে, ভালো মন্দ নেড়ে চেড়ে, দেখে শুনে (পারলে টুকরিটাই উলটে দিয়ে) বাছ বিচার করে তবেই তা ঝলায় ঢোকাচ্ছে । …কোই এই ব্যাপারে তো বাপ দাদাদের মুহকের দিকে তাকিয়ে বলে না যে, বাবা এটা নেবো…কাকা ওটা ঝোলায় ঢুকাবো? কেননা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে পরে বাজার ঘাট ঘাঁটাঘাটি করে ওদের হেব্বি এক্সপ্রিয়েন্স হয়ে গেছে তাই না? তাহলে ভাই ঠিক অমন করেই এই পরিপূর্ন জীবন বিধান (কুরান-হাদীস) নাড়া ঘাটা করতে তথা সেটাতেও হেব্বি এক্সপ্রিয়েন্স হতে কে মানা করলো? ওই ওরাই? যারা কিনা রিস্তেমে আমাদের বাপ চাচাই হোন? তাই ওদের মুখের কথাতেই এমন নিঃশঙ্কচিত্তে নিঃস্পৃহ হয়ে আখিরাতের ঝোলা মুখ খুলে ধরে রাখা ? অতএব যা পাওয়া যাচ্ছে তাই সহীহ…চাই সে বাড়ী পৌছবার আগেই ঝোলায় পচন ধরিয়ে পথে নিঃসম্বল করিয়ে আখির আখেরাতেও নিঃস্ব করে দিক! তবুও? কিন্তু তাজ্জব ব্যাপার যে অন্য ক্ষেত্রে এই বাপ চাচাদের বেটা ভাতিজা গণ আবার তাজা উদাহরন দিয়ে চলে ঐ অন্য রকম করেই । অর্থাৎ যে রকম করে ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক’ তার জারি করা কাগজের নোট নিয়ে নাড়া ভাড়া করতে বলেছেন, তা উলঙ্ঘন করে যে শুধু শুধু বাপ চাচাদের ভরসায় বিনা নেড়ে চেড়ে এরা তা গ্রহন করে নেবে… এমনটা নয়! এমন কি কোনো বাপ চাচা যদি জোড় করেও নজরানা স্বরুপ একটা পাঁচশো টাকার নোট এদের পকেটে ঢুকিয়ে দেন, তবুও দেখবেন সুযোগ বুঝা মাত্রই ঐ ফোকটে পাওয়া নোটটা মাথার উপর তুলে ধরে আগা পাশ তলা দেখে পড়ে তবেই গিয়ে ঠিকঠাক তা গ্রহন করবে । (ঐ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ফরমান অনুযায়ী) কিন্তু হায় ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা) জারি করা নোট (নির্দেশ) সমূহকে ঠিকঠাক গ্রহন করার ফরমান অনুযায়ী কুরান ও সহীহ হাদিসকে নেড়ে চেড়ে দেখার ব্যাপারে এদের কোনো মাথা ব্যাথা নাই । কেননা বাপ চাচাদের পরিবেশন করা রুটি তরকারি খেয়ে খেয়ে এখন যখন পেট ব্যাথা হয় নাই, তো কি দরকার এটা জানার যে, ঐ সাদা আটার রুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের(সা) বাতলে দেওয়া গমের আটার না চালের আটার তৈরি?! বলুন ০৪;৫৯ এর আলোকে এরা কি সত্যিই আখিরাতে বিশাসী?
যাইহোক ভাই ও বোনেরা! আবেগ দিয়ে না হলেও বাস্তব ও যুক্তির সমন্বয়ে প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক পাঠক মাত্রকেই এটা বিচার করে দেখা উচিত যে,এতদিন ধরে আপনারা আপন বাপ দাদাগনের দেওয়া পাঠশিক্ষা গ্রহন করে সত্যিই তিক্ত ক্ষতি রুপেই কি তা পকেটে বহন করে বেড়াচ্ছেন? নাকি ঐ কোন না কোন আবু আব্দুল্লাহর খেয়াল খুশি মার্কা বক্তব্য গ্রহন করতে গিয়েই বরং বুকে তীক্ষ্ম ক্ষত রুপে কিছু অনুভব করতে চলেছেন ? কেননা “…নিশ্চয় অনেকে অজ্ঞানবশত নিজেদের খেয়াল খুশি দ্বারা অন্য জনকে বিপথগামী করে ছাড়ে” (দ্রঃ০৬;১১৯) । তাই সাবধান করে দিতেই আবারও স্বরন করিয়ে দিতে চায় যে, যেহেতু বুকটা আপনারাই পকেটটাও আপনারই, অতএব ক্ষত সারাবার বা ক্ষতি মেটাবার বিলটাও আপনিই প্রদান করুন। হ্যাঁ আমরা খুব বেশী সাহায্য করলে এতটুকু করতে পারি যে, আপনারা যদি কুরানের কোনো শব্দ বা বক্তব্য কুরানের কোন আয়াতে আছে তা ফোন করে জানতে চান, তবে ইনশাল্লাহ আমাদের ফরিদ ভাই (সম্পাদক সাহেব) অবশ্যই আপনাদের যথা সম্ভব সাহায্য করবেন । অতএব এ ব্যাপারে আজ থেকেই কাজে নেমে পড়ুন ।

Post Your Comment

Thanks for your comment